দাস্তান-ই-মাসিহ: মারয়াম ও রুহুল্লাহ

9:26 PM | BY ZeroDivide EDIT

দাস্তান-ই-মাসিহ: মারয়াম ও রুহুল্লাহ

[মারয়ামের জন্ম ও জাকারিয়ার জিম্মা]

ইমরানের স্ত্রী মানত করিল, মনে লয়ে আশা,

"গর্ভের সন্তান সপিলাম তোমায়, কবুল করো ভালোবাসা।"

মেয়ে হলো তার, নাম মারয়াম, আল্লাহর ঘরে রয়,

জাকারিয়ার জিম্মায় তিনি, ইবাদতে সময় ক্ষয়।

মেহরাবেতে ফল দেখি, বে-মৌসুমি সাজ,

শীতের ফল গ্রীষ্মে আসে, কুদরতেরই কাজ।

জাকারিয়া শুধায়, "মা জননী, পেলে কোথা এ আহার?"

মারয়াম বলেন, "আল্লাহ পাঠান, রিজিক ভাণ্ডার যাঁর।"

দেখি সেই শান, জাকারিয়া তখন, তুলিলেন দুই হাত,

"বার্ধক্যেতে হাড় জীর্ণ, দাও হে এক বংশধর নাজাত।"

কবুল হলো সেই মোনাজাত, 'ইয়াহিয়া' এল নাম,

তিন দিন তিনি রবেন বোবা, এই তো নিশান-কাম।

আল্লাহু আল্লাহু... তুমি মালিক সর্বশক্তিমান...

আল্লাহু আল্লাহু... তুমি রহিম ও রহমান...

[জিবরাঈল ও অলৌকিক জন্ম]

পূর্ব দিকে মারয়াম বিবি, নিলেন আড়াল যখন,

মানুষ বেশে রুহ (জিবরাঈল), দেখা দিলেন তখন।

"ভয় পেয়ো না, আল্লাহর দূত, সুসংবাদ আনি,

পবিত্র এক পুত্র হবে, আল্লাহর হুকুম মানি।"

"কি করে হবে? আমি যে কুমারী, স্পর্শেনি কোনো জন,"

দূত বলে, "আল্লাহর হুকুম 'হও', হয় তা তখন।"

আল্লাহর ফুঁকে গর্ভে এল, আল্লাহর 'কালিমা',

সৃষ্টির মাঝে দেখাইল প্রভু, অসীম মহিমা।

প্রসব ব্যথায় খেজুর গাছের, নিচে নিলেন ঠাঁই,

"হায় রে মরণ হতো যদি," ভাবেন উপায় নাই।

নিচ থেকে এক আওয়াজ এল, "ঝরনা বহে দেখ,

গাছটি ধরে নাড়া দিলেই, তাজা খেজুর চেখ।"

[দোলনায় কথা ও সতীত্বের প্রমাণ]

কোলেতে শিশু, ফিরলেন যখন, লোকেরা করে ছিঃ ছিঃ,

"হারুন-বোনের এমন কাজ, মানতে নারি কিছুতেই।"

মুখেতে তার রোজা ছিল, ইশারা দিলেন তিনি,

শিশুর পানে চাইতে বলে, মানল না কেউ বাণী।

দোলনা থেকে শিশু ঈসা, খুললেন জবান,

"আমি আল্লাহর বান্দা ও নবী, শুনো দিয়া কান।

কিতাব মোরে দিবেন তিনি, নামাজ-যাকাত পড়ি,

মায়ের আমি সেবক হবো, জালিম নাহি কড়ি।"

আল্লাহু আল্লাহু... তুমি মালিক সর্বশক্তিমান...

[অলৌকিক মোজেজা ও দাওয়াত]

বড় হয়ে তিনি আনলেন 'ইঞ্জিল', সত্যের পয়গাম,

'মাসিহ' তিনি, আল্লাহর শক্তিতে, করেন কত কাম।

কাদার তৈরি পাখির মাঝে, ফুঁ দিতেই ওড়ে,

আল্লাহর হুকুমে জন্মান্ধ, চোখে জ্যোতি ফিরে।

কুষ্ঠ রোগী ভালো হয়, মরা মানুষ জাগে,

ঘরে কি খাও, কি জমাও, বলে দেন সব আগে।

বলেন তিনি, "আমি তো খোদা নই, নইকো খোদার ছেলে,

বনি ইসরাইল! মানো এক রবে, সব শিরক ফেলে।

হালাল করি কিছু হারাম, যা ছিল তোদের তরে,

সিরাতুম মুস্তাকিম এটা, চল এই পথ ধরে।"

[হাওয়ারি ও আসমানি দস্তরখান]

বনি ইসরাইল মুখ ফিরালো, ঈসা ডাকেন, "কে আছ?"

'হাওয়ারি'রা বলল এসে, "আমরা আছি তোমার পাছ।"

ঈমান আনল আল্লাহর 'পরে, চাইল এক নিশান,

"আসমানি এক দস্তরখান (মায়েদা), নামাও মেহেরবান।

ঈদ হবে আজ আমাদের, শুরু ও শেষের তরে,

রিজিকদাতা তুমিই শ্রেষ্ঠ, দাও ভরিয়া ঘরে।"

আল্লাহ বলেন, "পাঠাব আমি, কিন্তু সাবধান,

অকৃতজ্ঞ হলে পরে, শাস্তি হবে মহীয়ান।

এমন শাস্তি দেব তাকে, বিশ্ব জগত মাঝে,

দেখেনি কেউ এমন আজাব, সকাল কিংবা সাঁঝ।"

আল্লাহু আল্লাহু... তুমি মালিক সর্বশক্তিমান...

[ক্রুশবিদ্ধের ভ্রম ও উত্থান]

কাফেররা সব ফন্দি আঁটে, মারবে তাকে ক্রুশে,

আল্লাহ বলেন, "মারেনি তারা, দেখেনি তো শেষে।"

তুলে নিলেন আসমানেতে, অক্ষত সেই কায়া,

অন্য কাউকে মারল তারা, ওটা ছিল মায়া।

তিনি তো নবী, নুহ-ইব্রাহিম, মুসারই মতন,

সুসংবাদও দিলেন তিনি, আসবে একজন।

"আমার পরে আসবে নবী, 'আহমদ' তাহার নাম,

শেষ জামানায় আনবে বয়ে শান্তির পয়গাম।"

[হাশরের দিন ও শেষ ফয়সালা]

হাশরের দিনে আল্লাহ শুধাবেন, ঈসাকে ডেকে কাছে,

"তুমি কি বলেছিলে মানুষকে, পূজিতে মা আর পাছে?

তোমায় আর মাকে বানাতে খোদা, দিয়েছিলে কি ডাক?"

ভয়ে বলিবেন ঈসা নবী, "তুমিই পবিত্র পাক।

যা বলনি, তা কি বলি? আমি তো বলিনি তা,

তৌহিদেরই দাওয়াত দিছি, জানি না মনের কথা।

তুমিই তো আছ মনের খবর, তুমিই অন্তর্যামী,

বান্দা আমি, রাসুল আমি, তোমারই গোলাম আমি।"

আল্লাহু আল্লাহু... তুমি মালিক সর্বশক্তিমান...

আল্লাহু আল্লাহু... এক ও অদ্বিতীয় তুমি মহান...