১৩৫ বছরের পুরোনো কাদিয়ানি এখনো ইস্যু কেন?
১৮৮৯ সালের ২৩ মার্চ পাঞ্জাবের লুধিয়ানায় অনুসারীদের কাছ থেকে ইমামত বা খেলাফতের বায়াত (আনুগত্যের শপথ) গ্রহণ করে কাদিয়ানি আন্দোলনের প্রাতিষ্ঠানিক সূচনা হয়। কাদিয়ানীরা মির্জা গোলাম আহমদকে রাসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পরে আরেকজন নবী হিসেবে গ্রহন করে। তাঁর মানে রাসুলুল্লাহ (সা) শেষ নবী নন।
এটা মূলত ইংরেজদের মুসলিম বিরোধী প্রকল্পে অংশ ছিলো।
কাদিয়ানি যদি ইসলামিক আইডেন্টিটি দাবী না করে নতুন কোন ধর্ম হতো তাহলে এটা কোনো ইস্যুই হতো না। অন্যান্য ধর্মালম্বীদের মতোই তাদের আলাদা অবস্থান হতো ও সামাজিকভাবে কেউ মাথা ঘামাতো না।
সমস্যা আসলে কোথায়?
কাদিয়ানীদের মুসলিম আইডেন্টিটির কারণে সাধারণ মুসলিমরা কনফিউজড হয়ে যায়। একারণে ইসলাম ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী অনেক টেকনিক্যাল সমস্যা তৈরী হয়।
যেমন- তাদের ইমামের পিছনে অন্য মুসলিমের নামাজ হবে না, তাদের পরিবারের কারো সাথে কোনো মুসলিম পরিবারের সদস্যদের বিয়ে হলে তা মুসলিম বিয়ে হিসেবে গণ্য হয় না, মুসলিম পিতার সন্তান কাদিয়ানী হয়ে গেলে মুসলিম আইনে পিতা/মাতার সম্পত্তি পাবে না, ইত্যাদি।
তারা মুসলিম আইডেন্টিটি ছাড়া অন্য ধর্মের মতো আইডেন্টিটি নিলে কাদিয়ানী ইস্যুর সমস্যা সমাধান হয়ে যায়। কিন্তু পশ্চিমা বিশ্ব তাদেরকে মুসলিম হিসেবে স্পেশাল সন্মান করে!
আহ্মদীয়া মুসলিম জামাতের পবিত্র প্রতিষ্ঠাতা হযরত মির্যা গোলাম আহমদ (আ.)-এর লেখার একটি অংশ উদ্ধৃত করছি। তিনি বলেনঃ
“আমরা
ঈমান রাখি, খোদা তা‘লা ব্যতীত কোন মা‘বূদ নাই এবং সৈয়্যদনা হযরত মুহাম্মদ
মুস্তাফা সাল্লাল্লাহু আলায়হে ওয়া সাল্লাম আল্লাহ্র রসূল এবং খাতামুল
আম্বিয়া। আমরা ঈমান রাখি, কুরআন শরীফে আল্লাহ্ তা‘লা যা বলেছেন এবং আমাদের
নবী (সা.)-এর পক্ষ থেকে যা বর্ণিত হয়েছে উল্লিখিত বর্ণনানুসারে তা সবই
সত্য। আমরা এ-ও ঈমান রাখি, যে ব্যক্তি এই ইসলামী শরীয়ত থেকে বিন্দুমাত্র
বিচ্যুত হয় অথবা যে বিষয়গুলি অবশ্যকরণীয় বলে নির্ধারিত তা পরিত্যাগ করে
এবং অবৈধ বস্তুকে বৈধকরণের ভিত্তি স্থাপন করে, সে ব্যক্তি বে-ঈমান এবং
ইসলাম বিরোধী। আমি আমার জামা‘তকে উপদেশ দিচ্ছি, তারা যেন বিশুদ্ধ অন্তরে
পবিত্র কলেমা ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ্’-এর উপর ঈমান
রাখে এবং এই ঈমান নিয়ে মৃত্যুবরণ করে। কুরআন শরীফ হতে যাদের সত্যতা
প্রমাণিত, এমন সকল নবী (আলাইহিমুস সালাম) এবং কিতাবের প্রতি ঈমান আনবে।
নামায, রোযা, হজ্জ ও যাকাত এবং এতদ্ব্যতীত খোদা তা‘লা এবং তাঁর রসূল (সা.)
কর্তৃক নির্ধারিত কর্তব্যসমূকে প্রকৃতপক্ষে অবশ্য-করণীয় মনে করে যাবতীয়
নিষিদ্ধ বিষয়সমূহকে নিষিদ্ধ মনে করে সঠিকভাবে ইসলাম ধর্ম পালন করবে। মোট
কথা, যে সমস্ত বিষয়ে আকিদা ও আমল হিসেবে পূর্ববর্তী বুজুর্গানের ‘ইজমা’
অর্থাৎ সর্ববাদী-সম্মত মত ছিল এবং যে সমস্ত বিষয়কে আহলে সুন্নত জামা’তের
সর্বাদি-সম্মত মতে ইসলাম নাম দেয়া হয়েছে, তা সর্বতোভাবে মান্য করা অবশ্য
কর্তব্য। যে ব্যক্তি উপরোক্ত ধর্মমতের বিরুদ্ধে কোন দোষ আমাদের প্রতি আরোপ
করে, সে তাকওয়া বা খোদা-ভীতি এবং সততা বিসর্জন দিয়ে আমাদের বিরুদ্ধে
মিথ্যা অপবাদ রটনা করে। কিয়ামতের দিন তার বিরুদ্ধে আমাদের অভিযোগ থাকবে,
কবে সে আমাদের বুক চিরে দেখেছিল, আমাদের এই অঙ্গীকার সত্বেও অন্তরে আমরা
এসবের বিরুদ্ধে ছিলাম”?
“আলা
ইন্না লা’নাতাল্লাহে আলাল কাযেবীনা ওয়াল মুফতারিয়ীনা” অর্থ্যাৎ –
সাবধান! নিশ্চয় মিথ্যাবাদী ও মিথ্যারোপকারীদিগের ওপর আল্লাহ্র অভিসম্পাৎ।
(আইয়ামুস্সুলেহ্ পুস্তক, পৃষ্ঠা: ৮৬-৮৭)
কাদিয়ানীদের অমুসলিম বলি কেন ???
ইসলাম
ও কাদিয়ানীবাদ দুটি আলাদা ধর্ম। দুটোর মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য। দুটোর
মধ্যে আগুন-পানির সম্পর্ক। ইসলামের সাথে এদের বিদ্রোহ একেবারেই সুস্পষ্ট।
এরা
ইসলামের নাম ব্যবহার করলেও ইসলামের মৌলিক আকীদা মানে না, মুসলিম দাবি
করলেও মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে শেষ নবী
বিশ্বাস করে না, কালিমা পড়লেও মুসলমানদের মতো উদ্দেশ্য নেয় না।
এদের
রয়েছে আলাদা মিথ্যা নবী, আলাদা মিথ্যা ওহী, আলাদা মিথ্যা মাসীহ ও মাহদী,
আলাদা মিথ্যা ফেরেশতা, আলাদা মিথ্যা সাহাবা, আলাদা মিথ্যা খলীফা, আলাদা
মিথ্যা মসজিদে আকসা ইত্যাদি।
এরা
কুফরীর মাঝে ইসলামের লেবেল লাগায়, নিজেদের কুফরীকে ইসলাম বলে পেশ করে,
মদভর্তি বোতলের উপর যমযমের পানির লেবেল লাগিয়ে বাজারজাত করে, কুকুরের
গোশতকে গরুর গোশত বলে বিক্রি করে, ঔষধের নামে বিষ খাইয়ে দিয়ে সাধারণ
মুসলমানদেরকে ঈমানহারা ও ইসলামছাড়া করে।
ইমাম
আনোয়ার শাহ কাশ্মীরী রাহ. বলেছেন, এই উম্মতের মধ্যে কাদিয়ানী ফেতনার চেয়ে
ভয়াবহ কোন ফেতনা সৃষ্টি হয়নি। এর মোকাবেলায় সর্বশক্তি নিয়োগ করে মুসলমানদের
ঈমান রক্ষার সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ুন।
এটি এমন এক {জি}হাদ, যার বদলা নিশ্চিত জান্নাত। (আল-উসূলুয যাহাবিয়্যা ফীর রদ্দে আলাল কাদিয়ানিয়্যা পৃ. ৩৩।)
********************************************
বুদ্ধিজীবী
ও সুশীলরা বলে থাকেন, "কে মুসলিম আর কে কাফের, তা পরকালে আল্লাহ বিচার
করবেন। এ নিয়ে আমাদের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা উচিত না।"
তাদের
প্রতি প্রশ্ন রইল, কে যুদ্ধাপরাধী আর কে মুক্তিযোদ্ধা, তাও আল্লাহ বিচার
করবেন। এ নিয়ে দেশের মধ্যে অনৈক্য ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা উচিত না।
এভাবে কে রাষ্ট্রদ্রোহী, কে জঙ্গি, কে চোর-ডাকাত আর কে ভুয়া ডাক্তার ও ভুয়া পুলিশ, তাও আল্লাহ বিচার করবেন।
যদি
বলেন, দেশের মধ্যে যদি এগুলোর বিচার করা না হয়, তাহলে এ দেশ-জগতে সুষ্ঠু
ব্যবস্থাপনা থাকবে না। ভুয়া ডাক্তারের কাছে প্রতারণার শিকার হয়ে এবং
ভুয়া পুলিশের খপ্পরে পড়ে সাধারণ মানুষ নিজের জীবন ও সর্বস্ব হারাবে।
আমরাও
বলি, কে মুসলিম আর কে কাফের এটা যদি পার্থক্য করে জানিয়ে দেওয়া না হয়,
তাহলে সাধারণ মুসলমানরা ভুয়া মুসলিমদের (আহমদিয়া মুসলিম জামাত তথা
কাদিয়ানী সম্প্রদায়) কাছে প্রতারণার শিকার হয়ে নিজের অমূল্য সম্পদ ঈমান
হারিয়ে বসবে।
আল্লাহ তাআলা বলেন,
اَتُرِیۡدُوۡنَ اَنۡ تَہۡدُوۡا مَنۡ اَضَلَّ اللّٰہُ ؕ
আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেছেন, তোমরা কি তাকে হিদায়াতের উপর আনতে চাও? আন নিসা - ৮৮
কাজেই যে কাফের ও পথভ্রষ্ট, তাকে সঠিক পথের পথিক বলার কোন সুযোগ নেই।
************************************************
কাদিয়ানীরা
এ দেশে থাকতে পারবে এবং অন্যান্য ধর্মের অনুসারীদের মতোই নাগরিক অধিকার ও
ধর্মপালনের স্বাধীনতা ভোগ করতে পারবে, তবে ‘মুসলিম’ পরিচয়ে নয় এবং ইসলামী
পরিভাষা (কালেমা-মসজিদ ইত্যাদি) ব্যবহার করে নয়।
পিতাকে
অস্বীকারকারী পুত্র যেমন তার সম্পদের ওয়ারিস তথা অংশীদার হতে পারে না,
তেমনি মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে শেষ নবী
অস্বীকারকারীও ইসলামের ওয়ারিস তথা মুসলিম হতে পারে না।
বিএনপি-আওয়ামী
লীগের প্রতিষ্ঠাতা ও তাদের গঠনতন্ত্র না-মেনে যেভাবে কেউ ‘বিএনপি’-‘আওয়ামী
লীগ’ নামধারণ ও তাদের একান্ত পরিভাষা ব্যবহার করতে পারে না, তদ্রূপ
মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও ইসলামের মৌলিক আকীদা না মেনে
কেউ ‘মুসলিম’ নামধারণ ও একান্ত ইসলামী পরিভাষা ব্যবহার করতে পারে না।
কাদিয়ানীদের অমুসলিম বলি কেন? বই থেকে
হিন্দু
বৌদ্ধ খৃষ্টান যেভাবে তাদের নাগরিক সুবিধা নিয়ে চলছে আমরাও চাই
কাদিয়ানীরাও তাদের মত আলাদা ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে থাকুক, কিন্তু ভুলেও মুসলিম
পরিচয় আমরা সহ্য করবোনা,
- শেষ নবীতে কি মর্যাদা জানাবেন। আর শেষে আসার ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠত্ব কি? হযরত মুহাম্মদ সঃ এর পর যিনি ইমাম মাহদী আসবেন তিনিওতো আলাইহিসসালাম উপাদী পাবেন। অতএব যিনি ইমাম মাহদী হবেন তিনিও মুহাম্মদ সঃ কে মান্যকারী উম্মতি নবী হবেন এটাই কুরআন বলে? সুরা নিসা ৬৯নং আয়াত তার প্রমাণ
হে
কাবার মালিক মেহেরবান আল্লাহ আজ বাংলাদেশের এই বিশাল খতমে নবওতের মোহা
সমাবেশ থেকে.যে নিয়মে কাদিয়ানী কে কাপের ঘোষণার জন্য স্লোগান দিয়ে ঐক্য
বদ্ধ হচ্ছেন গনতন্ত্র নিপাত যাক সেই স্লোগান টা এসে যাক হাজার হাজার আলেম
দের অন্তরে..
- কাদিয়ানীরা কাফের। এটা যে মানবেনা, সেও কাফের। এদেরকে কাফের বললে যারা কষ্ট পায়, তারাও কাফের। এদেরকে কাফের ঘোষণার সম্মেলনকে যারা অহেতুক বা অযথা কাজ মনে করবে, তারাও তাদেরই অন্তর্ভুক্ত।কেউ মানুক আর না মানুক, কথা এটাই লাউড এন্ড ক্লিয়ার।
তারা আমাদের কোরআনকে নকল করে আলাদা কোরআন বানিয়ে মানুষের কাছে ছড়িয়ে দিচ্ছে
- সরোয়ার স্যার! আরও অসংখ্য অগণিত বিষয় রয়েছে যেগুলো তুলে ধরতে হবে, যেমন: কাদিয়ানীদের তথাকথিত মসজিদ গুলোকে মসজিদ গুলোকে মসজিদ নয় বরং মন্দির অথবা গীর্জা অথবা প্যাগোডা ইত্যাদি অন্য কিছু বলতে হবে তারা সরকারি ভাবে এবং তাদের নিজেদেরও পক্ষ থেকে এবং মুসলমানদের কবরস্থানে তাদেরকে কবর দেয়ার কোনো অধিকার নেই তাদের সমাহিত হওয়ার স্থানকে কবরস্থান বলারও সুযোগ নেই ইত্যাদি আরও অনেক অনেক বিষয় রয়েছে
- কাদিয়ানীরা মুসলিম নয় কাফের।এটা রাষ্ট্রীয়ভাবে ঘোষণা করার জন্য বহুদিন আগে থেকেই দাবি জানানো হচ্ছে কিন্তু এই প্রব্লেমের সমাধান না করে বরং এই প্রবলেমকে লালন পালন করে দিন দিন আরো বড় করা হচ্ছে
- এ দেশের ন্যায়নিষ্ঠ জনগণ ও ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের পক্ষ হতে যখনই এই অতি যৌক্তিক দাবিটি উত্থাপিত হয় তখনই এদেশের চিহ্নিত কিছু লোকের যেন গাত্রদাহ শুরু হয়ে যায়। একইসাথে শুরু হয় কাদিয়ানী সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে নানা ধরনের প্রতারণামূলক প্রচার-প্রচারণা। যেমন, কোনো রাষ্ট্র কি কারো ধর্ম নিরূপণের অধিকার রাখে? রাষ্ট্র কি ফতোয়া দিতে পারে? সর্বধর্মের লোকদের ভোটে নির্বাচিত কোনো সরকার কি কাউকে অমুসলিম ঘোষণা করতে পারে ইত্যাদি।যে সম্প্রদায়টির জন্মই হয়েছে ইসলাম ও মুসলমানের প্রতি বিদ্রোহ, বিদ্রƒপ আর প্রতারণার উপর- এরা যে প্রতারণাই করে যাবে তা তো বলাই বাহুল্য। কে না বোঝে যে, কাদিয়ানী সম্প্রদায়কে রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণার দাবির অর্থ এই নয় যে, রাষ্ট্র এদের ধর্মীয় পরিচয় নিরূপণ করুক বা রাষ্ট্র ফতোয়া দিক? এদের ধর্ম-পরিচয় তো কুরআন-সুন্নাহর বিধান অনুসারে এবং গোটা মুসলিম জাহানের উলামা ও মুসলিম গবেষকদের ফতোয়া ও সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে নির্ণীত হয়েই আছে। আর তা হচ্ছে, কাদিয়ানী সম্প্রদায় একটি অমুসলিম সম্প্রদায়। সেই সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে সৌদি আরব থেকে শুরু করে বিভিন্ন মুসলিম দেশ এদের রাষ্ট্রীয়ভাবেও অমুসলিম ঘোষণা করে এদের ঘৃণ্য কর্মকা- বন্ধ করেছে। কিন্তু বাংলাদেশে এখনো পর্যন্ত এদেরকে রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণা না করার কারণে এরা উপরোক্ত প্রতারণামূলক ঘৃণ্য কর্মকা- অব্যাহতভাবে করেই যাচ্ছে। এটা যাতে করতে না পারে এজন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণার দাবি করা হচ্ছে; যা অত্যন্ত যুক্তিসঙ্গত একটি দাবি।কোথাও কোনো হাতুড়ে চিকিৎসক যদি সাধারণ রোগীদের কাছে চিকিৎসক সেজে প্রতারণা করতে থাকে তখন তার এই প্রতারণা বন্ধে প্রশাসনের পদক্ষেপ দাবি যেমন যৌক্তিক কাদিয়ানীদের রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণার দাবিটিও তেমনি। তদ্রƒপ যে কোনো সাধারণ বুদ্ধির মানুষও বোঝে যে, একটি রাষ্ট্রের ভোটারদের মধ্যে সব রকমের লোকই থাকে। ভোটার তালিকায় যেমন অনেক ভালো মানুষ থাকে তেমনি কিছু প্রতারক ও দুর্নীতিবাজ লোকও থাকে। এ কারণে কি প্রতারকচক্র এই দাবি করতে পারে যে, নির্বাচিত সরকার চোর-বাটপারের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারবে না? প্রতারক ও দুর্নীতিবাজদের দুর্নীতি ও প্রতারণা বন্ধে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারবে না? রাষ্ট্রীয়ভাবে কাদিয়ানীদের অমুসলিম ঘোষণার দাবির অর্থ, এদেরকে সাধারণ মুসলমানের সাথে প্রতারণার সুযোগ না দেওয়া।কাদিয়ানী সম্প্রদায় যেমন এদেশের সরকার ও প্রশাসনকে উপরোক্ত নানা অপযুক্তির মাধ্যমে বিভ্রান্ত করতে চায় তেমনি সাধারণ মানুষকে ইসলাম থেকে বিচ্যুত করার জন্যও প্রতারণামূলক নানা বক্তব্য সম্বলিত পুস্তিকা ও বইপত্র প্রচার করে থাকে। এই সবগুলো এদের প্রতারক স্বভাবেরই নানা দৃষ্টান্ত।মুসলিম নামে কাদিয়ানী সম্প্রদায়ের উপস্থিতি এবং প্রতিনিয়ত এদের ইসলামের শাআইর এবং অতি মর্যাদাপূর্ণ ও সংবেদনশীল পরিভাষাসমূহের ব্যবহার নিষিদ্ধ না করার অর্থ হবে, ইসলামের সাথে এই বিদ্রোহ, বিদ্রƒপ ও অবমাননার ধারা অব্যাহত থাকতে দেওয়া, যা কোনো মুসলিম-সরকারের বৈশিষ্ট্য তো হতেই পারে না কোনো ন্যায়নিষ্ঠ সরকারের বৈশিষ্ট্যও হতে পারে না। আমরা আন্তরিকভাবে প্রত্যাশা করি, সরকার ও প্রশাসনে যেসকল ঈমানদার ও সুনীতিসম্পন্ন ব্যক্তি আছেন তারা বিষয়টি গভীরভাবে উপলব্ধি করার চেষ্টা করবেন এবং সাহসিকতার সাথে এই মহা প্রতারণার ধারা সমূলে উৎপাটিত করবেন।ইনশাআল্লাহ এই পথে সাধ্যমতো সঠিক ও ইখলাসপূর্ণ চেষ্টা-প্রচেষ্টা হাশরের ময়দানে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শাফাআত লাভের ওসীলা হবে। আল্লাহ তাআলা আমাদের তাওফীক দান করুন- আমীন।
এই
রাস্ট্র তো ইসলামিক না সে কেনো কাদিয়ানীদের অমুসলিম ঘোষণা করবে! যে
ব্যবস্থা একজন ছেলে যে নিজেকে মনে মনে মেয়ে মনে করে তাকেই স্পেসিফিকভাবে
ছেলে বলে না তারা কাদিয়ানীদের অমুসলিম ঘোষণা করবে! জাস্ট অরণ্যেরোদন!!
এটা
ব্রিটিশদের ষড়যন্ত্র ছিলো, তারা ইজরাইল প্রতিষ্ঠার অনেক আগে থেকে
মুসলিমদেরকে বিভিন্ন উপদলে ভাগ করার চক্রান্তে সোচ্চার এবং ক্লান্তহীন
ছিলো। তৎকালিন কাদিয়ানী নামক দলটির উদ্ভব ছিলো তাদের নব্য আবিষ্কার যা
১৩৫বছর পরেও ইস্যু হয় তাহলো বুঝেন তাদের ষড়যন্ত্র গলো কত সুদূর প্রসারী
ছিলো ইসলামের বিরুদ্ধে.....
বাংলাদেশে মাত্র ১ লাখের মতো কাদিয়ানি বাস করে।
উপরের সমস্যা বাংলাদেশে হবে না। তারপরও বিশেষ উদ্দেশ্যে পানি ঘোলা করা হচ্ছে।
আমি একটা প্রশ্ন করি -
আমাদের
দেশে যাযাবর বেদে সম্প্রদায়ের অনেকেই নিজেদের মুসলিম হিসাবে পরিচয় দেয়।
কিন্তু খোঁজ নিয়ে দেখেন তাদের ধর্ম বিশ্বাস ইসলাম থেকে কত ভিন্ন। তাদের
নিয়ে কোন প্রশ্ন উঠে ?
আসলে
কাদিয়ানি ইস্যু জামাতের রাজনৈতিক ইস্যু। পাকিস্তান আমলে ১৯৫৩ সনে এই
মওদুদীর কাদিয়ানি বিরুধি ফাতনার ফলে দাঙা বাধার পর মওদুদীর ফাঁসির আদেশ
হয়েছিল। পরে আয়ুব খান সামরিক শাসন জারি করলে মওদুদি মাফ পায়।
বাংলাদেশের সকল মসুলমানদের আওয়াজ তুলা দরকার শুধু আলেমরা তুললে হবে না এটার একটা সমাধান হওয়া দরকার।
ইসা আ কে নিয়ে খ্রিস্টান আর কাদিয়ানি দের আকিদা একই
স্যার
সেকুলার, অসম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিকদের কে কি মুসলিম বলা যাবে? কাদিয়ানীরা
যতটা প্রভাব বিস্তার করেছে মুসলিম সমাজে তার থেকেও তো বহুগুণ প্রভাব
ফেলেছে সেকুলার, অসম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক ধর্মীয়রা। এদের বিরুদ্ধে কি
কোনো কথা হবে না। নাকি বেশিরভাগের বিরুদ্ধে যাবে বলে চুপ থাকতে হবে। ছোট
গাজার মাত্র ২০ লক্ষ মুসলিম সারাবিশ্বের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে। তারা তো
ভাবেনি সারবিশ্বের বিরুদ্ধে কিভাবে যুদ্ধ করে টিকবে! তারা ঈমানের পক্ষে
যুদ্ধ করেছে। সামনে কে আছে সেটা ভাবেনি। বাঁচলে গাজী, মরলে শহীদ এটাই তাদের
মূলমন্ত্র। ইনশাআল্লাহ ইতিহাস একদিন এক টুকরো গাজাকে স্মরণ করবে।
সারাবিশ্বের ছুপা মুসলিমদের নয়।
রাষ্ট্র
ঘোষণা করার আগ পর্যন্ত আপনি কি নিশ্চিত না তারা কাফের কি না? আপনার
রাষ্ট্রর ঘোষণার প্রয়োজন কী? ব্যক্তিগতভাবে অনেকেই তো অনেককেই কাফের মনে
করে।যেমন আব্বাসী শফি হুজুরকে কাফের মনে করে কারণ মিলাদ কে গু এর সাথে
তুলনা দিয়েছিল।এখন শফি হুজুরকে রাষ্ট্রীয়ভাবে কাফের ঘোষণা করতে হবে?
এসব চিল্লায়ে লাভ নাই।রাষ্ট্র কখনোই এসবে যাবে না।
সোহরাওয়ার্দী উদ্যান থেকে বাইতুল মোকাররমের সম্মানিত খতিব, মুফতি আব্দুল মালেক সাহেব হাফিযাহুল্লাহ:
- কাদিয়ানী বিষয়ে দুইটি স্পষ্টতা জরুরি:
১-
এটি কোন মাজহাবি ভিন্নতা নয়। এটা কোন ফেরকাগত ইখতিলাফ নয়। এটি ইসলাম ও নন
ইসলামের বিষয়। আমাদের প্রশাসন ও সাংবাদিকবৃন্দ এটি খুব ভালো করে বুঝলেও
ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে।
২-
অনেকে বলেন, অন্যান্য ধর্মাবলম্বীরা বাংলাদেশে থাকতে পারলে কাদিয়ানীরা
থাকতে সমস্যা কোথায়? আমরা বলবো, কাদিয়ানীরা মুসলিম পরিচয় বহন করতে পারবেনা।
অমুসলিম পরিচয়ে থাকতে হবে।
আমাদের তিন পর্যায়ে তিনটি করণীয়:
- প্রশাসনের কর্তব্য: কাদিয়ানী বিষয়ে যথাযথ দায়িত্ব পালন করে নিজেদের ঈমানের পরিচয় দেয়া।
- সাংবাদিকদের দায়িত্ব: কোন প্রকার ধোঁকা - প্রতারণার আশ্রয় না নিয়ে আমানতদারিতার সাথে এই বিষয়টি উপস্থাপন করা।
-
ব্যবসায়ীদের দায়িত্ব: কাদিয়ানীদের উৎপাদিত সকল পণ্যের যথাযথ বিকল্প উৎপাদন
করা। প্রাণ - আরএফএল সহ নামীবেনামী সকল পণ্যের ব্যবহার নিতান্তই গায়রত
পরিপন্থী কাজ।
[কপিকৃত পোস্ট]
কা-দিয়া-নী সমস্যার মত একটি গুরুত্বপূর্ণ, সিরিয়াস ইস্যুকে হাস্যকর বানিয়ে ফেলছে আমাদের কিছু মুরব্বী।
জনাব
আব্বাসী সাহেবের এক ভিডিও প্রমোতে দেখলাম, কা-দি-য়ানীদের কা-ফে-র ঘোষণার
দাবীত আয়োজীত সম্মেলেনে জনাব আব্বাসীকে দাওয়াত দিতে মধুপুরী পীর সাহেব
নিজেই গিয়েছেন উনার কাছে, ওয়েল।
এখন স্বাভাবিক প্রশ্ন, আব্বাসী সাহেব, আল্লামা শফী, মামুনুল হক, ওলীপুরী,
আরিফ বিন হাবীব সাহেব সহ অনেককে আগে কা-ফে-র ট্যাগিয়েছে। এখন কাদিয়ানীরা
প্রশ্ন তুলতে পারে কওমী এসব আলমদের যিনি কাফের ট্যাগিয়েছে তাকে নিয়ে
কাদিয়ানীদের কাফের বলা স্বাভাবিক! এভাবে সিরিয়াস একটি ইস্যুকে হাল্কা,
হাস্যরসের পাত্র বানানো হচ্ছে।
কওমী ভাইদের কি হিম্মত, সাহস হবে তাদের যেসব আলেমনেদের জনাব আব্বাসী কা-ফে-র ফতোয়া দিয়েছেন তা প্রকাশ্যে প্রত্যাহারের দাবী করতে?
২....
দ্বিতীয়ত: হেফাজত আমীরের সাথে বিএনপির সখ্যতা এখন ওপেন। তিনি বিএনপিকে
খুশী করার জন্য মাঠে যথেষ্ট ব্যাবহার হচ্ছেন। আগামীতে বিএনপি ক্ষমতায় আসবে
সালাউদ্দিন সাহেব মন্ত্রী হবেন তা মোটামুটি নিশ্চিত। তাহলে হেফাজতের আমীর
সাহেব সালাউদ্দিনকে ডেকে ওয়াদা নিতে পারেন তারা ক্ষমতায় আসলে
কা-দি-য়া-নীদের কা-ফের ঘোষণা করবে, ব্যাস হয়ে গেল।
শেষ
কথা; কা-দিয়-নীরা কা-ফে-র। তাদের যারা কা-ফে-র মনে করেনা তারাও কা-ফে-র।
ওলামাদের এই ফতোয়ার সাথে আমি শতভাগ একমত। এই বিষয়ে তরুণ, প্রজন্ম,
জেন-জিদের মাঝে সচেতনতা তৈরী দরকার।
আজকের সম্মেলন সফল হোক, রাজনৈতিক রংমুক্ত হোক।
এটা
পিলখানা হত্যা, শাপলা চত্বরে হত্যা জুলাইয়ের হত্যা, ও ভারতীয় গোয়েন্দা
সংস্থা র এর এজেন্টদের বাচাতে ও তাদের সার্থে রক্ষা করতে এমন নতুন নতুন
ঝামেলা ও হেড লাইন তৈরী করে
কাদিয়ানি,
এলজি ছাড়াও তাদের দেওয়া জীবন ব্যবস্থা গনতান্ত্র, সেকুলারিজম, পুজিবাদ,
তাদের দেওয়া সংবিধান, জাতীয়তাবাদ এখনো বহাল রয়েছে। ব্রিটিশদের জায়গায় এখন
আমেরিকা এসেছে, যাকে বলা হয় নিউ কলোনিয়ালিজম।
একজন
নবীর দাবিদার একজন মিথ্যাবাদী বাংলাদেশ থেকে এই গ্রুপে যারা আছে কাদিয়ানী
সবাইকে কাফের বলে ঘোষণা করা এখনো সম্ভব আর এখন করা উচিত তাদের আমরা বলতেছি
না বাংলাদেশ থেকে বের করে দাও তাদের কাফের তারা মুসলিম নয় এটা ঘোষণা করতে
হবে তারা তাদের পরিচয় থাকুক আমরা চাই না কাফের আমাদের পরিচয় নিয়ে বেঁচে
থাকুক সমাজের আর সমাজটাকে ধ্বংসের পথে নিক আমরা চাই তাদের কাফের ঘোষণা
করতে হবে আজ হোক কাল হবেই হবে
"খতমে
নবুয়ত" নিয়ে তারা নতুন ধারণা প্রচার করে। সাধারণ মুসলিম যার দ্বীন
সম্পর্কে গভীর জ্ঞান নেই, তারা সহজেই এদের মিষ্টি কথায় ইমান হারায় ফেলতে
পারে। কাদিয়ানী, বাহাই, ইসমাইলী এরা ইমান আর কুফর নিয়ে গোজামিল ঢুকায়
ইসলামে
জাশির
ভায়েরা গনতন্ত্র যদি হারাম না ই হয় গনতন্ত্রকে যদি তোমরা নিজেদের আদর্শই
মানো তাহইলে ক্ষমতায় গিয়ে শরিয়াহ্ কায়েমের কথা কেন বলো
শিবিরের মন মানুষিকতা রাজাকারের মতো উদার!
আজ সোহরাওয়ার্দীতে কাদিয়ানিদের কাফের ঘোষণার দাবীতে সমাবেশ চলছে। সারাদেশ থেকে আশেকানে রাসুলেরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় আসছেন।
কিন্তু
শিবির তাদের টিএসসিতে ঢুকতে দিবে না। যদিও টিএসসি সবসময় সবার জন্য
উন্মুক্ত। কিন্তু ডাকসুতে জেতার পর সেটা শিবিরের পৈতৃক সম্পত্তির অংশ হয়ে
গিয়েছে। দুরদুরান্ত হতে ছুটে আসা নবীপ্রেমিক জনতার সেখানে বসে একটু
স্বস্তির নিঃশ্বাস নেওয়া বারন। কারণ শিবির তাদের ক্যাডার দাড় করিয়ে রেখেছে
গেটে।
একটা
বৃদ্ধকে দেখলাম, অনেক দুর থেকে হাপিয়ে এসেছে ভিতরে ঢুকে বসবে বলে, কিন্তু
সেখানে ঢুকা যাবে না! কারণ মওদুদীর অনুসারীরা সেটা কিনে নিয়েছে।
আমার বুঝে আসে না, যারা সোহরাওয়ার্দীতে জড়ো হয়েছে, কিসের ভিত্তিতে কেন তারা জড়ো হয়েছে?
শিবির
কি এর গুরুত্ব বুঝে না! নাকি তাদের কাছে কওমী ডাক বলে সেটা অসহ্য হয়ে
দাড়িয়েছে! নাকি তাদের কাছে কাদিয়ানী ধর্মের অনুসারীরা প্রিয়ভাজন হয়ে
গিয়েছে? হলেও হতে পারে!
কাদিয়ানিদের কাফের ঘোষণার দাবীতে আয়োজিত মুভমেন্টের বিরুদ্ধে তাদের যে তীব্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ করা যাচ্ছে তাতে তাই অনুমেয় হয়!
শিবির তুমি কার আদর্শ লালন করছো!
আজকে
কি টিএসসিতে পোগ্রাম দেওয়া খুব জরুরী ছিল? পাশেই তো নবীর আশেকেরা সমাবেশ
ডেকেছে! তাতে অংশগ্রহণ কি ঈমানী দায়িত্ব বলে মনে হয় না? অংশগ্রহণ তো দুর,
যারা এসেছে দুরপ্রান্ত থেকে তাদের প্রতি কেন এত বিদ্বেষ, কেন এত জিঘাংসা!!