দাস্তান-ই-সুলাইমান: জিন, বায়ু ও প্রজ্ঞার বাদশাহ
[উত্তরাধিকার ও মেষপালকের বিচার]
দাউদ নবীর পরে এলেন, সুলাইমান জাঁহাপনা,
নবুয়ত আর রাজত্ব পেলেন, আল্লাহর করুণা।
পিতার চেয়েও প্রজ্ঞাবান, আল্লাহ দিলেন রায়,
মেষের পালে ফসল খেল, বিচার এল পায়।
দাউদ দিলেন এক ফয়সালা, ক্ষতিপূরণ হারে,
সুলাইমান দিলেন ভিন্ন মত, চাষী পাবে দুগ্ধ ভারে।
ছাগল রবে চাষীর কাছে, জমিন হবে ঠিক,
জ্ঞান ও হিকমত দিলেন আল্লাহ, তাঁরেই অত্যধিক।
আল্লাহু আল্লাহু... তুমি মালিক সর্বশক্তিমান...
আল্লাহু আল্লাহু... তুমি রহিম ও রহমান...
[বাতাস, তামা ও জিনের বাদশাহী]
আল্লাহ দিলেন আজব ক্ষমতা, বাতাসের লাগাম,
সকাল বেলা পার হতো সে, এক মাসেরই কাম।
সন্ধ্যা বেলা ফিরত বাতাস, হুকুম মেনে তার,
এমন বাহন বিশ্ব মাঝে, দেখেনি কেউ আর।
গলিয়ে দিলেন তামার ঝরনা, পানির মতন বয়,
শক্ত তামা নরম হলো, মিস্ত্রিরা যা লয়।
জিনেরা সব গোলাম হয়ে, খাটে দিন ও রাত,
ডুবুরি হয়ে মুক্তা আনে, কেউ বা বাড়ায় হাত।
বানায় তারা মেহরাব আর, বিশাল ডেগচি সব,
অবাধ্য হলে জ্বলত আগুন, কঠিন কলরব।
[জাদুবিদ্যা ও হারুত-মারুত]
শয়তানেরা রটায় মিথ্যা, সুলাইমানের নামে,
"জাদু দিয়ে চালাত রাজ্য," বলে ডানে বামে।
সুলাইমান তো মুমিন ছিলেন, জাদুকর সে নয়,
শয়তানেরাই কুফরি করত, ছড়াত সংশয়।
বাবিল শহরে হারুত-মারুত, ফেরেশতা দুজন,
জাদু শিখায় পরীক্ষা দিতে, কে বা সাধুজন।
বলে দিত, "শিখো না এ, হারাবে ঈমান,"
তবু মানুষ শিখত জাদু, স্বামী-স্ত্রীর ব্যবধান।
আল্লাহু আল্লাহু... তুমি মালিক সর্বশক্তিমান...
[পশুপাখির ভাষা ও হুদহুদ]
পশুপাখির ভাষা বুঝেন, অদ্ভুত ক্ষমতা,
সৈন্য সামন্ত নিয়ে চলেন, বজায় সমতা।
পিঁপড়া বলে, "পালাও সবে, গর্তে ঢোকো ভাই,
সুলাইমানের লস্কর আজ, পিষবে উপায় নাই।"
শুনে হাসি মুচকি হাসেন, শোকর করেন রবে,
ক্ষুদ্র জীবের ভাষা তিনি, বুঝলেন অনুভবে।
পাখির দলে হুদহুদ নাই, রাগলেন তিনি বেশ,
"কারণ ছাড়া গাইব হলে, দেখব তাহার শেষ।"
ফিরে এসে হুদহুদ বলে, "আনিলাম খবর,
সাবা দেশে রানী এক, সূর্য পূজে জবর।"
[রানী বিলকিস ও সিংহাসন]
চিঠি দিলেন 'বিসমিল্লাহ'র, দাওয়াত দিয়ে তাতে,
"মুসলিম হয়ে এসো আমার, পবিত্র সভাতে।"
রানী পাঠায় উপহার সব, সোনার থালা-বাতে,
সুলাইমান কন, "যুদ্ধ হবে, যদি না দাও হাতে।"
সিংহাসনটা আনবে কে আজ, কে আছ খাড়া?
'ইফরিত' জিন বলল, "আমি, দেব সবার তাড়া।
আপনি বসার আগেই আমি, এনে দেব তা,"
কিন্তু একজন কিতাবি জ্ঞানী, বলল অন্য কথা-
"চোখের পলক ফেলার আগে, এনে দেব আমি,"
মুহূর্তেতে হাজির হলো, তখত সেটা দামি।
[কাঁচের মহল ও রানীর ঈমান]
প্রাসাদেতে ঢুকল রানী, স্বচ্ছ কাঁচের ঘর,
পানি ভেবে কাপড় তোলে, ভিজবে বলে বর।
সুলাইমান কন, "পানি না এ, স্বচ্ছ কাঁচের তল,"
লজ্জা পেয়ে রানী তখন, বুঝল নিজের ছল।
সূর্য পূজা ছেড়ে দিয়ে, ঈমান আনল সে,
এক আল্লাহর কাছে তারা, মাথা নোয়ায় যে।
আল্লাহু আল্লাহু... তুমি মালিক সর্বশক্তিমান...
[ঘোড়ার পরীক্ষা ও তওবা]
নেশায় পড়ে রেসের ঘোড়ার, ভুললেন নামাজ,
সূর্য গেল ডুবে যখন, বুঝলেন কি কাজ!
আল্লাহর প্রেমে সব ঘোড়াকে, করলেন কুরবানি,
গলা ও পা কেটে দিলেন, তওবার নিশান মানি।
চাইলেন তিনি এমন রাজ্য, পাবে না কেউ আর,
আল্লাহ দিলেন দুনিয়া জোড়া, বিশাল এক আকার।
[লাঠিতে ভর ও জিনের ভুল]
মৃত্যু এল সুলাইমানের, লাঠি ধরে পায়,
দাঁড়িয়ে তিনি রইলেন ঠায়, জান কবজ যায়।
জিনেরা সব ভয়ে মরে, কাজ করে সবে,
ভাবল তারা জিন্দা নবী, দেখছে তাদের ভবে।
অদৃশ্য এক পোকা এসে, খেল লাঠির মূল,
পড়ে গেলেন সুলাইমান, ভাঙল জিনের ভুল।
গায়েব যদি জানত তারা, খাটত না আর হায়,
অদৃশ্য সব জানেন শুধু, আল্লাহ ইশারা দেয়।
আল্লাহু আল্লাহু... তুমি মালিক সর্বশক্তিমান...
আল্লাহু আল্লাহু... তুমি রহিম ও রহমান...