দাস্তান-ই-মুহাম্মাদ (সা.): মানবতার মুক্তির দূত
[আইয়ামে জাহেলিয়াত ও আবরাহার হাতি]
আঁধার ছিল আরব ভূমি, মূর্তিপূজার কাল,
রক্তে রঞ্জিত ছিল, মরুর বালুর ঢাল।
আবরাহা এল হাতি নিয়ে, ভাঙবে কাবার ঘর,
আল্লাহ পাঠালেন আবাবিল, কুদরতি পাথর।
ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি মারে, ছোট কঙ্কর দিয়া,
হাতির বাহিনী ধ্বংস হলো, চিবানো ঘাস হইয়া।
সেই বছরেই আমিনার ঘরে, জ্বলে নূরের বাতি,
আব্দুল্লাহর এতিম তিনি, নাই যে পিতা সাথী।
দাদা মুত্তালিব নাম রাখিলেন, 'মুহাম্মাদ' মহান,
ধাত্রী হালিমা নিলেন কোলে, জুড়াতে পরাণ।
বুক চিরে তাঁর সাফ করিল, ফেরেশতারা এসে,
শৈশবেতেই রহমতের নূর, চমকায় যে বেশে।
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম... নবীজি আমার...
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম... দয়ার আধার...
[আল-আমিন, খাদিজা (রা.) ও হেরা গুহা]
যৌবনে তিনি 'আল-আমিন', সত্যবাদী নাম,
সততা দেখে খাদিজা বিবি, সপিলেন সব কাম।
পঁচিশে নবী, চল্লিশে বিবি, বিবাহ হলো সারা,
গরিব দুঃখীর পাশে তারা, জ্বালালেন এক তারা।
চল্লিশ বছর বয়সে নবী, ভাবেন হেরার গুহায়,
আঁধার কেটে আলোর রেখা, কবে দেখা যায়?
জিবরাঈল এলেন ওহী নিয়ে, "ইকরা বিসমি রাব্বিক",
"পড়ো প্রভুর নামে," কাঁপেন নবী ঠিক ঠিক।
ভয়ে কম্পিত নবীজি যান, খাদিজারই কাছে,
বিবি বলেন, "ভয় নেই গো, আল্লাহ সাথে আছে।"
[দাওয়াত, নির্যাতন ও তায়েফ]
এক আল্লাহর দাওয়াত দিতে, সাফা পাহাড়ে ডাক,
আবু লাহাব অভিশাপ দেয়, হয়ে যায় নাপাক।
মক্কার কাফের নির্যাতন করে, বিলাল-সুমাইয়ার 'পরে,
তবুও তাঁরা 'আহাদ আহাদ', বলেন জবান ভরে।
তায়েফে গেলেন দয়ার নবী, একটু আশার তরে,
পাথর মারল বখাটে সব, শরীর রক্তে ভরে।
পাহাড়ের ফেরেশতা এসে বলে, "হুকুম করুন আপনি,
দুই পাহাড়ে পিষে মারি, এদের এখনি।"
নবী বলেন, "না না! ওরা তো অবুঝ জাতি,
হয়তো এদের বংশে হবে, ইসলামেরই বাতি।"
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম... নবীজি আমার...
[মিরাজ ও হিজরত]
এক রাতে জিবরাঈল, আনেন বোরাক যান,
'ইসরা' ও 'মিরাজ' হলো, সিদরাতুল মুনতাহা স্থান।
সাত আসমান পাড়ি দিয়ে, আল্লাহর দিদার পান,
পাঁচ ওয়াক্তের নামাজ নিয়ে, জমিনে প্রস্থান।
মক্কার কাফের ফন্দি আঁটে, মারবে নবীর জান,
আল্লাহ বলেন, "মদিনায় যাও, হিজরতেরই টান।"
সাউর গুহায় মাকড়সা জাল, কবুতর পাড়ে ডিম,
কাফেররা সব অন্ধ হলো, কুদরত ও অসীম।
মদিনার মানুষ বরণ করে, 'তালা আল বাদরু' গায়,
আনসার আর মুহাজির সব, ভাই হয়ে যায়।
[বদর, ওহুদ ও খন্দক]
বদর প্রান্তরে তিনশত তের, কাফের হাজার জন,
আল্লাহর সাহায্যে মুসলিম, করে নিবেদন।
ফেরেশতা নামল সাদা বেশে, কাফের হলো শেষ,
সত্যের জয়ে ইসলাম পেল, নতুন এক আবেশ।
ওহুদ যুদ্ধে পরীক্ষা এক, তীরের নিশান ভুলে,
হামজা শহীদ, দন্ত মোবারক, শহীদ রক্তে দুলে।
খন্দকেতে পরিখা খুড়ে, আটকালেন দুশমন,
বাতাস পাঠায়ে তছনছ আল্লাহ, করলেন তাদের মন।
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম... নবীজি আমার...
[হুদাইবিয়া ও মক্কা বিজয়]
হুদাইবিয়ার সন্ধি হলো, আপাত পরাজয়,
আল্লাহ বলেন, "এটাই তো ফাতাহ (বিজয়), নাই কোনো সংশয়।"
বিনা রক্তে মক্কা বিজয়, দশ হাজার সেনাদল,
কাফেররা সব ভয়ে কাঁপে, হারালো তাদের বল।
নবী বললেন, "যাও আজ সবে, দিলাম সাধারণ ক্ষমা,
ইউসুফ যেমন ভাইদের পাপ, রাখেননি তো জমা।"
কাবা ঘরের তিনশ ষাট, মূর্তি ভাঙেন তিনি,
"হক এসেছে, বাতিল গেছে," ঘোষণা দিলেন যিনি।
[বিদায় হজ্জ ও ওফাত]
আরাফাতের ময়দানেতে, শেষ ভাষণের দিন,
"সাদা-কালো ভেদাভেদ নাই, পূর্ণ হলো দ্বীন।
নারী জাতির সম্মান দিও, দিও তাদের হক,
কুরআন আর সুন্নাহ দিলাম, দিও না তো ফক।"
তেষট্টি বছর বয়সে নবী, শেষ অসুখে পড়েন,
আয়েশার কোলে মাথা রেখে, প্রভুর নাম স্মরেন।
"ইলার রফিকিল আলা" বলি, নিলেন চির বিদায়,
পৃথিবী হলো অন্ধকার, কাঁদিল সব হিয়ায়।
তিনি নাই তবু আছেন তিনি, দুরুদ আর সালামে,
শাফায়াতের কান্ডারি তিনি, হাশরের ময়দানে।
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম... নবীজি আমার...
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম... শাফায়াতের কান্ডারি যার...