দাস্তান-ই-আদম: খলিফাতুল্লাহ ও আদি পিতা
[সূচনা: খলিফা ও ফেরেশতাদের প্রশ্ন]
ফেরেশতা সব ডাকি আল্লাহ, দিলেন ঘোষণা,
"মাটির দুনিয়ায় আমি, করিব রচনা।
পাঠাব 'খলিফা' এক, আমারই প্রতিনিধি,"
শুনিয়া ফেরেশতা সব, চিন্তিত নিরবধি।
বলিল তারা, "হে প্রভু, কেন সৃজিবে তারে?
রক্ত ঝরাবে তারা, ফিতনা ছড়াবে দ্বারে।
আমরা তো আছি রত, তোমারি তসবিহ গানে,"
আল্লাহ বলেন, "আমি যা জানি, তোমরা জানো না জ্ঞানে।"
[নামের শিক্ষা ও আদমের শ্রেষ্ঠত্ব]
ঠনঠনে মাটি আর পচা কাদা (Altered Black Mud) দিয়া,
গড়িলেন আদমকে, নিজের রুহ ফুঁকিয়া।
শেখালেন সব নাম, যা কিছু আছে ভবে,
ফেরেশতা হার মানিল, জ্ঞানীর গোরবে।
বলিলেন আল্লাহ, "আদম, বলে দাও নামগুলো,"
জ্ঞান দেখে ফেরেশতারা, সেজদাতে নত হলো।
প্রমাণ মিলিল সেথা, জ্ঞানই আসল বল,
নূরের চেয়েও দামী, মাটির এই সম্বল।
আল্লাহু আল্লাহু... তুমি মালিক সর্বশক্তিমান...
আল্লাহু আল্লাহু... তুমি রহিম ও রহমান...
[ইবলিসের অহংকার ও সিজদা]
হুকুম দিলেন রব, "সিজদা করো সবে,"
লুটিয়ে পড়িল সব, ইবলিস শুধু রবে।
আগুনের জিন সে যে, অহংকারে মত্ত,
মাটিকে সিজদা করা, ভাবিল সে নিস্বত্ব।
বলিল, "আগুনে জন্ম, আমিই তো শ্রেষ্ঠতর,
কাদার তৈরি আদম, কেন হবে উচ্চতর?"
তাকাব্বুর কাল হলো, লানত পড়িল গলে,
জান্নাত থেকে তাকে, দিলেন নামিয়ে তলে।
[শয়তানের চ্যালেঞ্জ ও শপথ]
বিতাড়িত হয়ে সে, চাইল হায়াত কাল,
কেয়ামত তক বাচঁতে, বিছাল মায়াজাল।
"ডানে-বায়ে, সামনে-পিছে, ধোঁকা দেব আমি,
সরল পথের দিশা, ভুলাব যে আমি।"
আল্লাহ বলেন, "যা, তোরে দিলাম ছাড়,
আমার বান্দা যে খাঁটি, ভাঙবি না মন তার।
জাহান্নাম ভরিব আমি, তোর অনুসারী দিয়ে,
সত্যের পথে রবে, যারা যাবে সব সয়ে।"
আল্লাহু আল্লাহু... তুমি মালিক সর্বশক্তিমান...
[নিষিদ্ধ বৃক্ষ ও জান্নাতে পরীক্ষা]
জান্নাতে আদম-হাওয়া, সুখে করে বাস,
"সব খাও, শুধু ওই গাছে, যেও না সর্বনাশ।"
শয়তান এল সেথা, সাধু সেজে ছলে,
"আমি তো হিতাকাঙ্ক্ষী," কসম কেটে বলে।
"এই গাছ 'অনন্ত বৃক্ষ' (Tree of Eternity), খেলে হবে অমর,
ফেরেশতা হয়ে রবে, সাজবে নবরূপ।"
মিথ্যা কসম খেয়ে, বিশ্বাস করাল তারে,
ভুল করে খেল ফল, শয়তানের প্ররোচণারে।
[লজ্জা ও দুনিয়ায় অবতরণ]
ফল খেতেই খসে গেল, জান্নাতী সেই বাস,
লজ্জায় দুজন মিলে, খুঁজেন বাঁচার আশ।
জান্নাতের পাতা দিয়ে, ঢাকিলেন শরীর,
বুঝিলেন ভুল তখন, ঝরল চোখের নীর।
ডাক দিলেন রব তখন, "করি নাই কি মানা?
শয়তান যে শত্রু তোর, ছিল না কি জানা?"
কাঁদিলেন আদম-হাওয়া, "রব্বানা জলামনা,
ক্ষমা না করিলে মোদের, উপায় যে রবে না।"
কবুল করিলেন তওবা, দয়ালু মেহেরবান,
কিন্তু হুকুম হলো, "দুনিয়ায় করো প্রস্থান।
শত্রু হয়ে রবে সেথা, মানুষ ও শয়তান,
পরীক্ষা দিতে হবে, তবেই পাবে জান।"
আল্লাহু আল্লাহু... তুমি মালিক সর্বশক্তিমান...
[হাবিল-কাবিল ও প্রথম রক্তপাত]
দুনিয়ায় এল তারা, শুরু হলো সংসার,
দুই ছেলে হাবিল-কাবিল, করে হাহাকার।
কোরবানি দিল তারা, আল্লাহরই নামে,
হাবিলেরটা কবুল হলো, কাবিল জ্বলল বামে।
হিংসায় অন্ধ হয়ে, ভাই মারল ভাই,
প্রথম রক্ত ঝরল, বাঁচার উপায় নাই।
লাশ নিয়ে ঘোরে কাবিল, কি করিবে হায়?
আল্লাহ পাঠালেন কাক, বুঝাতে উপায়।
কাক এক উড়ে এসে, মাটি খুঁড়ে দেখায়,
মৃত কাক পুঁতে ফেলে, মাটিরই বিছানায়।
লজ্জিত কাবিল তখন, অনুতাপে দগ্ধ,
প্রাণের হরমত বুঝে, হলো সে স্তব্ধ।
এই তো মানুষের শুরু, ভুল আর তওবা,
শয়তানের সাথে যুদ্ধ, আর আল্লাহর জজবা।
আল্লাহু আল্লাহু... তুমি মালিক সর্বশক্তিমান...
আল্লাহু আল্লাহু... তুমি রহিম ও রহমান...